চরাঞ্চলে কুরবানির আনন্দ ২০২৬

চরাঞ্চলে কুরবানির আনন্দ ২০২৬

Date: 6 জুন, 2026

ঈদুল আজহা মানেই ত্যাগের মহিমা, আনন্দের উৎসব আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সুখ ভাগাভাগি করার উপলক্ষ। দেশের শহর গ্রামাঞ্চলে কুরবানির পশু জবাই, মাংস বিতরণ এবং উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। কিন্তু এই আনন্দের চিত্র সব জায়গায় এক নয়। কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এখনও এমন অসংখ্য পরিবার রয়েছে, যাদের কাছে ঈদ মানে নতুন পোশাক বা কুরবানির মাংস নয়; বরং প্রতিদিনের মতো জীবিকার সংগ্রাম।

ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে গড়ে ওঠা এসব চরে বসবাসকারী মানুষের অনেকেই নদীভাঙনে হারিয়েছেন ঘরবাড়ি, জমিজমা জীবিকার অবলম্বন। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, সীমিত কর্মসংস্থান এবং দীর্ঘদিনের দারিদ্র্যের কারণে তাদের জীবনে ঈদের আনন্দও অনেক সময় অধরাই থেকে যায়। শহরের দরিদ্র মানুষরা বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কিছুটা হলেও কুরবানির মাংস পেয়ে থাকেন। কিন্তু চরাঞ্চলের অনেক পরিবার বছরের পর বছর এমন সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে। এমনও পরিবার রয়েছে, যারা পুরো বছরে মাত্র একবার অর্থাৎ ঈদুল আজহার সময় গরুর মাংস খাওয়ার সুযোগ পায়।

এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই কয়েক বছর ধরে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের অসহায় মানুষের জন্য কুরবানির আয়োজন করে আসছে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন। মানবিক এই উদ্যোগের প্রতি আস্থা রেখে দেশ-বিদেশের অসংখ্য দাতা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সেই দান সহযোগিতার অর্থে এবার কেনা হয়েছে ৪৫টি ছাগলসহ মোট ৫২টি গরু-ছাগল, যা কুরবানি করে চরাঞ্চলের শত শত সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

কুরবানি আমাদের শুধু আত্মত্যাগের শিক্ষা দেয় না; এটি সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ, মানবিকতা এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই প্রকাশ পায়, যখন আনন্দের অংশীদার হন সমাজের অবহেলিত বঞ্চিত মানুষরাও।

আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ কেবল মাংস বিতরণের একটি কর্মসূচি নয়; এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর, তাদের ঈদের আনন্দে শরিক হওয়ার এবং মানবতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রয়াস। দাতাদের আন্তরিক সহযোগিতা ভালোবাসায় কুড়িগ্রামের দুর্গম চরাঞ্চলে এবারও ঈদের দিনে ফুটবে অসংখ্য হাসি।

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের সেই হাসিমাখা মুখগুলোই প্রমাণ করে, কুরবানির প্রকৃত আনন্দ কেবল পশু জবাইয়ে নয়, বরং মানুষের হৃদয়ে আনন্দ পৌঁছে দেওয়ার মধ্যেই নিহিত।