বন্যা পুনর্বাসন প্রকল্প ২০২৬
বন্যা পুনর্বাসন প্রকল্প ২০২৬
Date: 19 জুলাই, 2026
দক্ষিণ চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যার শুরু থেকেই দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন (ASH Foundation)। শুধুমাত্র জরুরি ত্রাণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ না থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বন্যার প্রথম দিন থেকেই ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক দল দুর্গম এলাকায় নৌকার মাধ্যমে ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে। চলমান মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় ইতোমধ্যে ৪,০০০ বন্যার্ত পরিবারের মাঝে প্রায় ৪০ টন খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি দল সরেজমিনে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের দুর্দশা প্রত্যক্ষ করে। অসংখ্য পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে—এই বাস্তবতা ফাউন্ডেশনকে স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে উদ্বুদ্ধ করে।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ১৮ জুলাই (শনিবার) পেকুয়া উপজেলা মাঠে ১০০টি নতুন ঘর নির্মাণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বন্যায় গৃহহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন। সরকারের পাশাপাশি তাদের এই মহতী উদ্যোগ বন্যার্তদের পুনর্বাসনে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাবলম্বী করে টেকসই সমাজ গঠনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ২০টি আশ্রয়হীন পরিবারের হাতে নতুন ঘর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের নির্মাণসামগ্রী হস্তান্তর করা হয়।
শুধু ঘর নির্মাণের উপকরণই নয়, প্রতিটি পরিবারের জন্য নতুন খাট, বেডিং, মশারি, বালিশ, বালতি, ডেক্সি, পাতিল, মগ, মাদুরসহ প্রয়োজনীয় নিত্যব্যবহার্য গৃহস্থালি সামগ্রীও প্রদান করা হয়, যাতে তারা নতুন করে স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে পারেন।
আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন -এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। এছাড়াও স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, “ত্রাণ বিতরণ নয়, বন্যার্তদের স্থায়ী পুনর্বাসনই আমাদের লক্ষ্য। সবার সহযোগিতা পেলে আমরা গৃহহীন মানুষের জন্য আরও বেশি ঘর নির্মাণ করতে পারব।”
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় এই পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ১০০টি ঘরের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে, যাতে আরও বেশি গৃহহীন পরিবার নতুন করে মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয় পায়।
আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে, দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু জরুরি সহায়তা নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিশ্বাস থেকেই ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি পুনর্বাসন, নিরাপদ আবাসন এবং প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সহায়তা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আগামী দিনেও ফাউন্ডেশন দেশের যেকোনো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা ও টেকসই পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে—এই প্রত্যয় নিয়েই আমাদের পথচলা।